সুরে সুরে ইসলাম প্রচার করছেন ‘মেসুত কুর্তিস’

ইসলাম শিক্ষা দেয় যে আল্লাহ দয়ালু, করুনাময়, এক ও অদ্বিতীয়। ইসলাম মানব জাতিকে সঠিক পথ দেখায়। ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে, আদম হতে শুরু করে আল্লাহ্ প্রেরিত সকল নবী ইসলামের বাণীই প্রচার করে গেছেন। যুগে যুগে বহু মানুষ ইসলাম প্রচার করে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ‘মেসুত কুর্তিস’ সুরে সুরে ইসলাম প্রচার করছেন।

বর্তমান সময়ে ইসলামী সঙ্গীতের জগতে সফল পদচারণা যাদের তাদের তালিকার প্রথম দিকেই রাখা যায় মেসুত কুর্তিসের নাম।তিনি তার চমৎকার কণ্ঠের সুরমাধূর্য্য দিয়ে ইসলামী সঙ্গীতের শ্রোতাদের হৃদয়ে নিজের নামটি সযত্নে খোদাই করে নিয়েছেন।মেসুত কুর্তিসের গানকে বলা যায় আল্লাহ এবং প্রিয় নবীজী হযরত মুহাম্মদের (সা.) প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসার মহিমান্বিত প্রকাশ। ইসলামের আলোয় আলোকিত পরিবেশে লালিত হওয়া কার্তিসের গানে ইসলামের ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

মেসুতের পারিবারিক ঐতিহ্যও বেশ সমৃদ্ধ। তার শরীরে একইসঙ্গে বইছে আলবেনিয়ান ও তুর্কি রক্ত। তার মা আলবেনিয়ান পরিবারের মেয়ে। কিন্ত তিনি পড়াশোনা করেছেন তুর্কি স্কুলে।মেসুতের বাবার রক্তেও রয়েছে বিচিত্র সংমিশ্রণ। তার দাদা আলবেনিয়ান বংশোদ্ভুত হলেও পড়াশোনা করেছেন তুরস্কে। সেই সময়ে অটোমান সাম্রাজ্যের বিখ্যাত এক মাদরাসায়। তিনি মেসিডোনিয়ার প্রাণকেন্দ্র স্কপিয়েতে মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

‘দ্য ন্যাশনাল’ পত্রিকায় দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি সাধারণত ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই। আমি দেখেছি আজকালকার মুসলিম সমাজে অনেক সুন্নাহই অবহেলিত যার মধ্যে বড় একটি হচ্ছে হাসি। অথচ নবীজী সবসময় হাসিমুখে থাকতেন। নবীজী বলেছেন, ‘মুসলিম ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলাও সাদাকা।’ আমি এই অ্যালবামে এই শিক্ষাটির প্রতি গুরুত্বারোপের চেষ্টা করেছি।

মেসুত কুর্তিসের গানের কথা সাধারণত তিনি না লিখে পেশাদার গীতিকারকে দিয়ে লিখিয়ে নেন। তবে সুর এবং গানের আইডিয়া হয় তার নিজের। কিন্তু Tabassam অ্যালবামের ১২ টি গানের ছয়টি তিনি নিজেই লিখেছেন।

এই অ্যালবামে তাই গীতিকার হিসেবে তার অভিষেক ঘটে। আরবী, মেসিডোনিয়ান এবং তুর্কি ভাষায় গান করেন তিনি। গত রমজানে প্রকাশিত হয়েছে আরবী ভাষায় গাওয়া আধ্যাত্মিক আবহ সম্বলিত তাঁর একক নাশিদ ilahi। ‘Awakening Records শিল্পীদের সঙ্গে এবং একা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কনসার্টে দেখা যায় তাকে। বিভিন্ন সেবামূলক কাজে ফান্ড সংগ্রহ করার জন্য কনসার্ট করেন তিনি।

আরব আমিরাতের পত্রিকা দ্য ন্যাশনালের একটি সাক্ষাৎকারে মেসুত কুর্তিস তার সঙ্গীত ও শিল্পভাবনার কথা বলেছেন।কিভাবে একজন ভালো শিল্পী হয়ে উঠলেন এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি মনে করি শিল্পী হতে হলে প্রথমে আপনার নিজের সম্পর্কে জানতে হবে। শুধু গলা সুন্দর হলেই মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে স্টেজে উঠে গান গেয়ে ফেলা ব্যাপারটি আসলে এতটা সহজ নয়। আপনার অবশ্যই নিজের চিন্তাভাবনা নিরীক্ষণ করার মতো অন্তর্দৃষ্টি থাকতে হবে। এটা বিশেষ করে নাশিদ লেখার ক্ষেত্রে কাজে দেয়।

ভালো নাশিদের জন্য কথা ভালো হওয়া জরুরি নাকি সুর সেই প্রসঙ্গ তিনি বলেন, ‘নাশিদ সাধারণত কথা দিয়েই বিচার করা হয়। তার মানে এই না যে, সুর ভাবার মতো বিষয় না। সুন্দর বার্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিন্ত সুর ও ছন্দও আকর্ষণীয় হওয়া চাই।’মেসুত কুর্তিসের এমন ভক্তও আছে যারা গানে মিউজিক পছন্দ করেন না, তাদের সম্মানে তিনি রেখেছেন তার গানের Vocals Only ভার্সন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার এমন অনেক ভক্ত আছে যারা আমি গানে যে ম্যাসেজ দিতে চাই তা পছন্দ করেন কিন্তু মিউজিকের ব্যবহার তারা মানতে পারেন না। একজন মুসলিম হিসেবে আমি জানি, কোন কোন স্কলারের মতে গানে মিউজিক ব্যবহার নিষিদ্ধ। আমি সবসময় মানুষের ইচ্ছাকে সম্মান করি।ইসলামে শিল্পের স্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, যদি নিয়ত সঠিক থাকে এবং সঠিকভাবে করা হয়, তাহলে শিল্প আধ্যাত্মিক উন্নতির মাধ্যম হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামের সঙ্গে শিল্পের কোন সংঘর্ষ নেই। কারণ ইসলাম নিজেই একটি শিল্প। আপনি কোরআন ও কোরআনের সুরে তার প্রমাণ দেখতে পাবেন। আল্লাহ আমাদের সৃষ্টিকর্তা। তিনিই সেরা শিল্পী। তার সৃষ্টিতে সেই শিল্পের কারুকার্যের দেখা মেলে। আমাদের কাজ হচ্ছে তার সৃষ্টিকে আবিষ্কার করা এবং এর মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হওয়া।আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ‘মেসুত কুর্তিস’ এর মত ইসলাম প্রচার করার তাওফিক দান করুন। আমিন।