মা-মে’য়ের একসঙ্গে দেহ ব্যবসা, দু’জনকেই জীবন্ত পু’ড়িয়ে হ’ত্যা

ঘটনাটি ভা’রতের পশ্চিমবঙ্গের। রীতিমতো পরিক’ল্পনা করে, আঁটঘাট বেঁধে মা রমা এবং মে’য়ে রিয়াকে কলকাতা থেকে হলদিয়ায় ডেকে নিয়ে গিয়েছিল শেখ সাদ্দাম হোসেন। মা-মে’য়ের থাকার ব্যবস্থা করেছিল দুর্গাচকের হাসপাতাল রোডের একটি বাড়িতে।

পু’লিশের অনুমান, রাতে খাওয়ার সঙ্গে মা’দক জাতীয় কিছু খাইয়ে বেঁ’হু’শ করা হয় মা-মে’য়েকে। তারপর রাতেই সহযোগীদের নিয়ে বে’হুঁ’শ অবস্থাতেই মা-মে’য়েকে নিয়ে যায় ঝিকুড়খালির সুনসান নদী পাড়ে। ভোররাতে সেখানেই জীবিত অবস্থায় আ’গুন দিয়ে দেওয়া হয় মা-মে’য়ের গায়ে। অচৈ’তন্য অবস্থাতেই অ’গ্নিদ’গ্ধ হয়ে মৃ’ত্যু হয় দু’জনের।

১৮ ফেব্রুয়ারি স্থানীয়রা নদীর পাড়ে কিছু জ্ব’লতে দেখেন। তারাই ঘট’নাস্থলে গিয়ে দেখেন দু’টি দেহ পুড়ছে। তখনও আ’গু’ন জ্ব’লছে দাউ দাউ করে। স্থানীয় বাসিন্দারা সেই আ’গুন নেভালেও, দেহ দু’টি সনাক্ত করার মতো অবস্থায় ছিল না। প্রত্য’ক্ষদর্শীদের বয়ানে, দু’টি দেহই পু’ড়ে কয়লা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বেঁচে গিয়েছিল এক জনের কয়েক গাছি চুল এবং অন্য জনের কানের দুল। পু’লিশ দেহ ময়’নাতদ’ন্তে পাঠায়। সেখান থেকেই জানা যায়, দু’জনের দেহেই আ’গু’নের ক্ষ’ত ‘অ্যান্টি ম’র্টেম’ অর্থাৎ মৃ’ত অবস্থায় পো’ড়ানো হয়নি। জীবিত অবস্থায় পো’ড়ানো হয়েছে।

প্রাথমিক ভাবে পূর্ব মেদিনীপুর জে’লা পু’লিশের হাতে দু’টি দেহ স’না’ক্ত করার মতো কোনও সূত্র ছিল না। কিন্তু তদ’ন্তকা’রীদের নজর কাড়ে এক জনের সোনালি সবুজ চুল এবং অন্য জনের সোনার কানের দুল। কানের দুল দু’টি স্বস্তিকার আকারে এবং তাতে খোদাই করা এসজেপি এবং কেডিএম।

তদ’ন্তকারীদের কথায়, ”আম’রা ওই দু’টি বৈশিষ্ট উল্লেখ করে দেহ স’না’ক্ত করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্য নিই। অনেক ফোন আসে। সেগুলো খতিয়ে দেখতে দেখতেই এক ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন যিনি ওই কানের দুলের মালিক স’ম্পর্কে কিছু তথ্য দেন। সেই সূত্র ধরে এগোতে গিয়েই হ’দিশ মেলে নিউ ব্যারাকপুরের মা-মে’য়ের।”

পু’লিশ সূত্রে খবর, প্রথমে রমা এবং রিয়ার কোনও আত্মীয়ের খোঁ’জ পাওয়া যায়নি যাদের কাছ থেকে কোনও বাড়তি তথ্য মেলে। তবে পূর্ব মেদিনীপুর জে’লা পু’লিশের দল রমা-রিয়ার পাড়ায় খোঁ’জ করে জানতে পারে যে তারাও বেশ কয়েক দিন ধরে বে’পা’ত্তা। তাদের পাড়ায় না থাকার সময়টা মিলে যায় দে’হ পাওয়ার সময়ের সঙ্গে। পু’লিশ পাড়া প্রতিবেশীদের কাছ থেকেই জোগাড় করে মা-মে’য়ের ফোন নম্বর।

সেই ফোন নম্বরের সূত্র ধরে এগোতে গিয়েই জানা যায়, মা-মে’য়ের ফোনের টাওয়ার লোকেশন ১৭ তারিখ রাতেও মিলছে হলদিয়াতেই। ফোনের সূত্র ধরেই হ’দিস মেলে আরও কয়েক জনের। তাদের সঙ্গে কথা বলেই পু’লিশ জানতে পারেন, মা-মে’য়ের সঙ্গে যোগ রয়েছে এসকর্ট সার্ভিস বা দেহ ব্যবসার।

পু’লিশ সূত্রে খবর, টুক’রো টুক’রো তথ্য একজোট করে তারা ত’দন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে গিয়ে পান আরও একটি মোবাইল নম্বর। মা-মে’য়ের ফোন থেকে ওই নম্বরে দে’হ উ’দ্ধারের আগের রাতে বা তার আগে কয়েক দিনে বেশ কয়েক বার কথা হয়েছে ওই মোবাইল নম্বরের মালিকের। আর সেই নম্বরের মালিকের খোঁ’জ করতে গিয়ে দেখা যায় সে নিজেও হলদিয়ার বাসিন্দা এবং হলদিয়াতেই রয়েছে।

তদ’ন্তে অনেকটাই এগিয়ে যায় পু’লিশ। ওই মোবাইল নম্বরের মালিক শেখ সাদ্দাম হোসেন। বাড়ি দুর্গাচক থা’না এলাকাতেই। খোঁ’জ করতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায় একটি হাসপাতা’লে ভর্তি অবস্থায়। হাতে ব্যান্ডেজ। চিকিৎসক পু’লিশকে জানান, হাতে ক্ষ’ত রয়েছে।প্রথমে স্বী’কার করতে না চাইলেও, পর পর ফোনালাপের তথ্য সামনে আনতেই জে’রায় ভে’ঙে পড়ে সাদ্দাম। স্বী’কা’র করে রিয়ার সঙ্গে তার যোগাযোগের কথা।

পেশায় ঠিকাদার সাদ্দাম পু’লিশকে জানায়, কোনও ম্যা’সাজ পার্লারে যাতায়াতের সুবাদেই আলাপ হয় রিয়ার সঙ্গে। সেখান থেকে স’ম্পর্কও তৈরি হয়। পু’লিশের দাবি, সাদ্দাম নিজে বিবাহিত হলেও, সেই তথ্য লুকিয়ে রিয়াকে বিয়ের প্রতি’শ্রু’তি দিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে বিয়ে না করায় চা’প দিচ্ছিল মা-মে’য়ে। সাদ্দাম জেরায় দাবি করেছে, রীতিমতো ব্ল্যা’কমে’ল করছিল মা-মে’য়ে। আর তা থেকে মুক্তি পেতে খু’নের ছ’ক কষে সাদ্দাম। হলদিয়ায় ডেকে পাঠায় রিয়া-রমাকে।

এমন ভাবে খু’নের পরিক’ল্পনা করে যাতে মা-মে’য়েকে স’না’ক্ত না করা যায়। তাই নিজের সঙ্গীদের নিয়ে জী’বিত অবস্থায় পু’ড়িয়ে দেয়। পু’লিশের দাবি, ধৃত সা’দ্দাম এবং তার সঙ্গী মনজুর আলম ছাড়াও আরও কয়েক জন যু’ক্ত এই জোড়া খু’নে। পু’লিশ তাদের খোঁ’জ করছে। ধৃ’তদের এ দিন আ’দালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের পু’লিশ হেফাজতের নি’র্দে’শ দিয়েছেন। তবে ত’দ’ন্তকারীদের দাবি, এখনও তদ’ন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে। ফের জে’রা করা হবে ধৃ’তদের। তার পরেই জানা যাবে খু’নের আসল উদ্দেশ্য কী’!