দিল্লির দা’ঙ্গা’র কঠিন সময় ৮০ মুসলিমের জীবন বাঁচিয়েছেন এই শিখ

ভারতের দিল্লিতে চলমান সা’ম্প্রদায়িক দা’ঙ্গায় পু’ড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শত শত মু’সলিম ঘরবাড়ি, লু’টপাট হয়েছে দোকান, হ’ত্যা ছাড়াও দা’ঙ্গাকারীদের লা’থি খেয়ে জন্মেছে ‘মিরাকল শি’শু’। ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি যখন মু’সলিমদের জন্য আ’তঙ্কের কারণ তখন হিন্দুদেরই কেউ কেউ সা’ম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির স্থাপন করেছেন। তাদেরই একজন উত্তর-পূর্ব দিল্লির গোকুলপুরীর বাসিন্দা মাহিন্দর সিং।

ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘শিখ নিউজ এক্সপ্রেস’ এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উ’গ্র হিন্দুত্ববা’দী হাত থেকে গত ৬০-৮০ জন মু’সলিমকে প্রা’ণে বাঁচিয়ে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দিয়েছেন মাহিন্দর এবং তার ছেলে ইন্দ্রজিৎ সিং।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি হিন্দু অধ্যুষিত গোলকপুরী এলাকায় বসবাসকারী মু’সলিমদের বাড়িতে অ’জ্ঞাত পরিচয়ের দা’ঙ্গাকারীরা হা’মলা চালাচ্ছে বলে খবর পান মাহিন্দর। সঙ্গে সঙ্গে ছেলে ইন্দ্রজিৎকে ডেকে নিয়ে স্থানীয় মু’সলিমদের বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে যান। তারপর ছেলের বু’লেট মোটরসাইকেল ও নিজের স্কুটিতে করে ৬০ থেকে ৮০ জন মু’সলিম প্রতিবেশীকে গোকুলপুরী থেকে এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মু’সলিম অধ্যুষিত এলাকা করদমপুরে নিরাপদ আশ্রয়ে নামিয়ে দিয়ে আসেন।

মাহিন্দর বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি দেখে ১৯৮৪ সালে দিল্লিতে হওয়া শিখ নিধন যজ্ঞের কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল আমার। তাই হিন্দু বা মু’সলিম কিছু দেখিনি। আমার চোখে শুধু মানুষ ভাসছিল। শুধু ছোট ছোট শি’শুর মুখ চোখে পড়ছিল। এসব দেখে আমার মনে হয়, এরা সবাই আমার সন্তান। এদের কোনো ক্ষ’তি হতে দেব না আমি। মানবিকতার তাগিদেই প্রয়োজনের সময় তাদের সাহায্য করেছি আমরা। এছাড়া আর কী বা বলতে পারি?’

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনকে (এনআরসি) কেন্দ্র করে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে গত কয়েকদিন ধরে চলা সা’ম্প্রদায়িক অশান্তির জেরে এখনও পর্যন্ত ৪৩ জনের মৃ’ত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আ’হত হয়েছেন অন্তত ৩০০ শতাধিক।