দারাজের অফিসে র‍্যা’বের অ’ভিযান

রাজধানীর বনানীতে দারাজ ডটকম ডটবিডির অফিসে অ’ভিযান চালাচ্ছে র‍্যা’ব। তাদের ওয়েবসাইটে স’রকার নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে মাস্ক বিক্রির প্রমাণ রয়েছে র‍্যা’বের কাছে। রোববার বিকেলে অ’ভিযানটি শুরু হয়। অ’ভিযানটির নেতৃত্ব দেন র‍্যা’বের নির্বাহী ম্যা’জিস্ট্রেট সারোয়ার আলম।

অ’ভিযানের বি’ষয়ে ম্যা’জিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জাগো নিউজকে বলেন, করোনা মো’কাবিলায় স’রকার নানা ধরনর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অন্যতম হচ্ছে সবার জন্য মাস্কের মূল্য নির্ধারণ। তবে দারাজের ওয়েবসাইটে স’রকার নির্ধারিত দাম থেকে অতিরিক্ত দামে মাস্ক বিক্রির বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। তাই এই অ’ভিযান চলছে। অ’ভিযান শেষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানিয়ে দেয়া হবে।

করোনা সং’ক্র’মণ রোধে ফেস মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণ বি’ষয়ে ও’ষুধ উৎপাদনকারী ও মেডিকেল ডিভাইস উৎপাদনকারী এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে ও’ষুধ প্রশাসন অধিদফতর। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে থ্রি লেয়ার সার্জিক্যাল ফেস মাস্কের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্রতি পিস ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত মূল্যের চাইতে বেশি দামে কেউ বিক্রি করলে তার বি’রুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার হুশিয়ারি দেয়া হয়।

এছাড়াও মাস্ক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক একই ডিস্ট্রিবিউটরকে একটি ইনভ’য়েসে ৫০০ পিসের বেশি মাস্ক সরবরাহ না করা এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে এ পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ৫০ এমএল প্যাক সাইজে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

একের পর এক জনবান্ধব অ’ভিযানে নিজেকে সবার কাছে তুলে ধরেছেন সারোয়ার আলম। সর্বশেষ ক’রোনাভা’ইরাসেে বাংলাদেশে তিনজন আ’ক্রান্ত হওয়ার পর ঢাকার দোকান ও ফার্মেসিতে স্টক শেষ হয়ে যায় মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারের। বিক্রি হচ্ছিল ৪-৫ গুণ বেশি দামে। জনগণের প্রতি এ অন্যায় বন্ধে মঙ্গলবার মিটফোর্ডে অ’ভিযান চালান সারোয়ার আলম। পরদিন বুধবার মধ্যরাতেও অ’ভিযান চালান তিনি। আ’টক করেন পাঁচ কোটি টাকার নিম্নমানের মাস্ক, মেয়াদউত্তীর্ণ ও’ষুধ।

তবে আলোচিত অ’ভিযানের পাশাপাশি একবার হাইকোর্টের তলবের কারণে আলোচনায় আসেন এ ম্যা’জিস্ট্রেট। সম্প্রতি তার ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা কেড়ে নিতে দা’য়ের করা রিটে আবারও আলোচিত হন তিনি। ভ্রাম্যমাণ আ’দালতে এক ব্যক্তিকে দেয়া দ’ণ্ডাদেশের চারমাস পার হলেও আদেশের প্রত্যয়িত অনুলিপি না পাওয়ার প্রেক্ষাপটে করা এক রিটে ১ ডিসেম্বর তাকে হাইকোর্টে তলব করা হয়। সেখান থেকে নিস্তার পাওয়ার পর গত বুধবার (১১ মার্চ) ক্ষমতার অ’পব্যবহারেের অভিযোগ এনে তার (মোট তিনজন) ভ্রাম্যমাণ আ’দালত পরিচালনার ক্ষমতা (ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা) বাতিলের নির্দেশনার আর্জি জানিয়ে একটি সম্পূরক রিট আবেদন করা হয় হাইকোর্টে।

রিটের পরেই সরব হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। সারোয়ার আলমের বি’রুদ্ধে এমন রিটকে অ’সাধু ব্যবসায়ীদের চ’ক্রান্ত বলে উল্লেখ করছেন তারা। তবে এসবের মধ্যেও দমে যাননি সারোয়ার আলম। একের পর এক অ’ভিযান চা’লিয়ে যাচ্ছেন। বুধবার মিটফোর্ডে রাতভর অ’ভিযানের পর বৃহস্পতিবার সকালে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা হয় তার।

সারোয়ার আলম বলেন, ‘যাই হোক, আমি আমার কাজ, আমার অ’ভিযান বন্ধ রাখবো না। আমি যা করি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মানুষের জন্যই করি। রাষ্ট্রের কল্যাণে আমি এই কাজ করেই যাবো।’