চুরির মোটরসাইকেল মিলল ছাত্রলীগ নেতার কাছে

মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মাগুরা জেলা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক আলিমুজ্জামান রথিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এ সময় তার কাছ থেকে চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।আলিমুজ্জামান রথি দক্ষিণাঞ্চলের মোটরসাইকেল চোরাই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে শরিয়তপুর জেলার মনোহরপুর বাজারের মোড় থেকে স্থানীয় বণিক সমিতির সভাপতি আতিক মোল্যার ইয়ামাহা ফেজার মোটরসাইকেল চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি পালং মডেল থানায় মোটরসাইকেল চুরির বিষয়ে অভিযোগ দেন।

পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল চোরাই সিন্ডিকেটের এক সদস্যকে আটক করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওই থানার পুলিশ মাগুরায় অভিযান চালায়। শনিবার সকালে তারা চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলটি মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালি গ্রামের আনিসুর রহমানের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা আলিমুজ্জামান রথির কাছ থেকে উদ্ধারের পাশাপাশি তাকে গ্রেফতার করে।

মাগুরা সদর থানার ওসি (তদন্ত) সাইদুর রহমান তার আটক এবং মোটরসাইকেল উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।মোটরসাইকেল চুরির বিষয়ে শরিয়তপুর জেলার পালং মডেল থানার এসআই শেখ আশরাফুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের মাগুরা, ফরিদপুর, শরিয়তপুর এবং মাদারিপুর এলাকায় মোটরসাইকেল চুরির বেশ বড় একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। যারা এক জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে অন্য জেলায় পাঠিয়ে দেয়। পরে সুবিধাজনক সময়ে তারা সেটি বিক্রি করে।

ইতিমধ্যে এই সিন্ডিকেটের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকিদের আটকের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।এ দিকে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতার আটকের বিষয়ে মাগুরা জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আলি হোসেন মুক্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।

তবে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদি হাসান রুবেল বলেন, জেলা ছাত্রলীগের কেউ কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। গত সপ্তাহেও কৃষক অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি সুকান্ত অধিকারিসহ ৪ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, এ মাসের ৭ তারিখে মাগুরা ডিসি অফিসের সামনে থেকে কৃষক পরিবারের ৪ সদস্যকে অপহরন এবং মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা চলে। যে ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি সুকান্ত অধিকারি শিশির, প্রচার সম্পাদক জিবলু মোল্যাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের হয়। পুলিশ ইতিমধ্যে ওই ঘটনায় জড়িত সাচ্চু, ইমন এবং টুটুল নামে তিনজনকে আটক করেছে।