গাছের মগডালে কোয়ারেন্টাইনে ৭ যুবক

ভারতে করোনাভাইরাস ঠেকাতে দিন পাঁচেক আগে শুরু হয় লকডাউন। সে সময় চেন্নাই থেকে পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার বলরামপুরের ভাঙিডিতে নিজ গ্রামে ফেরেন সাত যুবক। সতর্ক গ্রামবাসী ওই যুবকদের প্রথমে হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসকরা তাদের বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলেন। কিন্তু মাটির বাড়িতে পর্যাপ্ত থাকার ঘর নেই তাদের। ফলে গাছের মগডালে মাচা করে সেখানেই কোয়ারেন্টাইনে থাকছেন ওই সাত যুবক।

বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মাটি থেকে প্রায় আট ফুট উচ্চতায় আম গাছে তৈরি করা হয়েছে মাচা। প্লাস্টিক ও মশারি দিয়ে সে মাচা ঘেরা হয়েছে। মোবাইলে চার্জ দিতে রয়েছে বিদ্যুতের সংযোগ। সতর্কতা হিসাবে মাস্ক পরে থাকছেন তারা। জামাকাপড় নিজেরাই ধুচ্ছেন। এককথায় করোনাভাইরাস মোকাবিলায় শহুরে সচেতন বাসিন্দাদের অনেকেই যা করতে ব্যর্থ, তাই করছেন পশ্চিমবঙ্গেও প্রত্যন্ত গ্রামের ওই সাত যুবক। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের

তাদের একজন বিজয় লাহা জানান, ‘গাছেই বেশিরভাগ সময় কাটাচ্ছি। খুব প্রয়োজন ছাড়া নিচে নামছি না। সংক্রমণ যাতে না ছড়িয়ে পড়ে সে জন্যই এ পদক্ষেপ। এতে গ্রামবাসীও খুশি।’

গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, ‘বাড়িতে ওদের আলাদা থাকার ঘর নেই। তাই বিকল্প পদ্ধতিতে ওদের রাখা হয়েছে। তবে, প্রয়োজনীয় সবকিছু সেখানে আমরা দিয়ে আসছি।’

গাছে কোয়ারেন্টাইনে থাকা দীনবন্ধু সিং সর্দার বলেন, ‘আমাদের খাবার, থালা, কাপড় ধোয়ার সাবান গ্রামবাসীরাই দিচ্ছেন।’

ওই সাত যুবকের সবাই চেন্নাইয়ে একটি গাড়ির কারখানায় কাজ করেন। দিনে রোজগার করেন ৫০০ রুপি। গত রোববার লকডাউন ঘোষণার আগে তারা গ্রামে ফেরেন। ২২-২৪ বয়সী ওই যুবকদের গ্রামে আসার খবর ছড়াতেই অতঙ্কিত হয়ে পড়েন গ্রামবাসী। তারপরই গাছেই কোয়ান্টাইনে থাকছেন তারা।