গণফোরাম থেকে আওয়ামী লীগ নির্মূল

কয়দিন আগেই গণফোরামের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো ঘটা করে। সেই সম্মেলনে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে কি? গণফোরাম যে ড. কামাল হোসেনের পকেট সংগঠন, ড. কামাল হোসেন যখন যা মনে করবেন সেটাই গণফোরামে শেষ কথা।

আর সে কারণেই কাউন্সিল বা সম্মেলনের তোয়াক্কা না করে ড. কামাল হোসেন গণফোরামের আগের কমিটি বাতিল করে দিয়েছিলেন। শুধু বাতিল করে দিয়েই তিনি ক্ষান্ত হননি, গতকাল আবার ৭১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করেছেন। এই কমিটিতে যথারীতি সভাপতি হিসেবে তিনিই রয়েছেন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রেজা কিবরিয়াকে বহাল রেখেছেন।

গণফোরামের এই নতুন কমিটিতে তিনজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বাদ পড়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন কার্যনির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগে প্রায় নিস্ক্রিয় থেকে গণফোরামে যোগ দেওয়া আবু সাইয়িদ এবং সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা মহসীন মন্টু।

ড. কামাল হোসেনের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, এই কমিটির মাধ্যমে গণফোরাম থেকে আওয়ামী লীগকে উচ্ছেদ করা হলো। গণফোরামের এই তিনজন নেতাই আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতেন। ড. কামালের কাছের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন যে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বা গণফোরামের বৈঠকের খবর তারা সরকারের কাছে পাচার করতেন।

তবে এই তিননেতা এই ধরনের অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। বরং তারা মনে করছেন যে ড. কামাল একজন একনায়কের চেয়েও নিকৃষ্ট বলেই এ ধরনের নতুন কমিটি গঠন করতে পেরেছেন। উল্লেখ্য, সুব্রত চৌধুরী, অধ্যাপক আবু সাইয়ীদ, মোস্তফা মহসীন মন্টু- এই তিনজনেই জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত নেতা।

তাদেরকে বাদ দেওয়ার মূল কারণ আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অবস্থা লেজে-গোবরে হয়ে গেছে। বিশেষ করে, অতিমাত্রায় আওয়ামী লীগ ঘরানার হওয়ার কারণে বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে সরে যাওয়ার কথা ভাবছে।

বিএনপির মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে ব্যাপক নেতিবাচক মনোভাবও রয়েছে। এ কারণেই ড. কামাল হোসেন নিজেকে আওয়ামী ঘরানা থেকে বের করতে এই তিনজন নেতাকে সরিয়ে দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্য একটি পক্ষ বলছে যে, এই তিনজনের সঙ্গে গোপনে আওয়ামী লীগের যোগাযোগ রয়েছে। এই তিনজনের জন্যই গণফোরাম শক্তিশালী হতে পারছে না। তবে আওয়ামী লীগের নেতারা এটাকে হাস্যকর বলেছে। গণফোরাম গণনার মতো কোনো দলই নয় বলে মন্তব্য করছেন আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা।

তিনি বলেছেন যে গণফোরামের তথ্য নিয়ে আওয়ামী লীগ কি করবে! আওয়ামী লীগ তার নিজের কাজটাই সুষ্ঠুভাবে করতে চায়। তবে যে কারণেই হোক না কেন, এর মাধ্যমে একটি বিষয়ই স্পষ্ট হয়েছে যে ড. কামাল হোসেন মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তিনি আসলে স্বৈরাচারী একনায়কের চেয়েও ভয়ংকর।