করোনায় যে সংকটের মুখে বাংলাদেশ

করোনায় যে সংকটের মুখে বাংলাদেশ

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস এসে গেছে। এখন পর্যন্ত ৮জন করোনা রোগি সনাক্ত করা হয়েছে। ২ হাজারের বেশি মানুষ হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে। বেশ কয়েকজন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। কিন্তু করোনা রোগির সংখ্যা যাই হোক না কেন করোনার প্রকোপ ইতিমধ্যে অনুভব করতে শুরু করেছে দেশবাসী। ইতিমধ্যে স্কুল কলেজসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ দেওয়া হয়েছে। বিমান চলাচল, খেলাধুলা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আস্তে আস্তে দেশ একটি শাট ডাউনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটা কতদিন থাকবে কেউ জানে না।

চিকিৎসকরা বলছেন, এপ্রিলের শেষ নাগাদ বিশ্বব্যাপি করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হবে। কিন্তু করোনার কারণে বাংলাদেশ কয়েকটি সংকটের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। এই সংকটগুলো হলো;

গার্মেন্টস শিল্পের সংকট

করোনা পরিস্থিতির কারণে গার্মেন্টস শিল্পের প্রথমেই যে সংকট ধারণা করা হয়েছিল। তা এখন উভয় সংকটে পরিণত হয়েছে। গার্মেন্টস শিল্প থেকে প্রথমে বলা হয়েছিল, চীনের ওপর আমাদের কাঁচামাল নির্ভরশীল। গার্মেন্টসের অধিকাংশ কাচামাল আসে চীন থেকে। কাজেই চীনের পরিস্থিতি খারাপ হলে বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। কিন্তু চীনের পরিস্থিতি ভালো হলেও গার্মেন্টসের জন্য কোন সুখবর নেই। বাংলাদেশের গার্মেন্টসের যে বড় বাজার ইউরোপ এবং আমেরিকা, তা এখন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে গ্রীষ্মকালীন যে শিফমেন্ট তা অনেক প্রতিষ্ঠানই বাতিল করছে। এরফলে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বলে ব্যবসায়ীরা আশংকা প্রকাশ করছে।

অভিবাসী আয়ে ধস

বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের একটি বড় অংশ আসে বাংলাদেশি অভিবাসীদের রেমিট্যান্সের মাধ্যমে। করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশে অভিবাসী আয়ে ধস পড়ে গেছে। সারাবিশ্বে যে দেশগুলোতে অভিবাসী বেশি সে দেশগুলো করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়েছে, ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক অভিবাসীরা যেতে পারেননি, আবার অনেক অভিবাসী ওখানে কাজ বন্ধ করে রেখেছেন। তারা দেশে তাদের আত্নীয়স্বজনকে বলেছে টাকা পাঠানো সম্ভব নয়। পশ্চিমা দেশগুলোতেও অভিবাসীদের একই অবস্থা। এরফলে বাংলাদেশে অভিবাসী আয়ে একটা বড় ধরণের ধস নামবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

রপ্তানি আয়ে ধস

গার্মেন্টস ছাড়াও বাংলাদেশে বিভিন্ন রপ্তানি খাত রয়েছে। খাদ্যজাত, ওষুধ রপ্তানি ছাড়াও বিভিন্ন খাতে করোনার ঢেউ এসে লেগেছে। এরফলে কার্যত বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রপ্তানি আয়ে একটা ধসের আশংকা করা হচ্ছে।

আমদানীতেও আকাল

বাংলাদেশ আমদানী নির্ভর দেশ। খাদ্যদ্রব্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন জিনিস বাংলাদেশের আমদানী করতে হয়। এই আমদানী নির্ভর অর্থনীতি হওয়ার কারণেই আমাদের বাংলাদেশে এখন করোনার প্রকোপ পড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে চীন থেকে রসুন পেঁয়াজসহ বিভিন্ন জিনিস আসা বন্ধ হয়ে গেছে। কাগজ শিল্পে সংকট দেখা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে কাগজের দাম বেড়ে যাচ্ছে। সংকট সৃষ্টি হয়েছে নির্মাণ শিল্পেও। এই সংকট যদি দীর্ঘমেয়াদি হয় তাহলে আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় আমদানীতে ধস নামবে।

বিমান ও পর্যটন শিল্পে ধস

এখন পর্যন্ত সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ খাত হলো বিমান এবং পর্যটন খাত। আন্তর্জাতিক অধিকাংশ ফ্লাইটই এখন বন্ধ রয়েছে। এরফলে বিমান খাত লোকসানের মুখে পড়তে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে পর্যটন শিল্প। ঢাকার বিভিন্ন পাঁচতারা হোটেল জনশূন্য অবস্থায় রয়েছে। ঢাকার বাইরে পর্যটনগুলোও শুন্য রয়েছে। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে পর্যটন খাতে একটা বড় ধরণের ধস নামতে পারে।

এছাড়াও করোনা ভাইরাসের কারণে পদ্মাসেতু মেট্রোরেলসহ বড় প্রকল্পগুলো বাধাগ্রস্থ হতে পারে বলেও আশংকা করা হচ্ছে।