করোনায় মৃত্যু রহস্য ও কিছু টোটকা

আমেরিকার নিউইয়র্কে করোনাভাইরাসের আক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী আমেরিকান মারা গেছেন। কারণ সেখানে বাংলাদেশীর সংখ্যা অন্য রাজ্যের তুলনায় অনেক বেশি। সে কারণে বাংলাদেশের অনেক মানুষের নজির আমেরিকার নিউইয়র্কের দিকে। বাংলাদেশ আর কানাডার দুইজন সিনিয়র সাংবাদিকের কথোপকথনে জানা গেছে যে, নিউইয়র্কে বাঙ্গালী কমিউনিটির প্রাথমিকভাবে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের একটা বড় অংশ হচ্ছে উবার চালাক। যারা উবারে শুধু এয়ারপোর্টে ড্রপ দিয়েছেন তাঁরা প্রায় সবাই ভালো আছেন। আর যারা এয়ারপোর্ট থেকে আবার যাত্রী নিয়ে এসেছেন তাঁদের একটা বড় অংশ সংক্রমিত হয়েছেন। এখানেও যা পাওয়া যাচ্ছে তা হলো প্রাথমিক আক্রান্তদের অধিকাংশই সামাজিক দূরত্বের বা ঘরে থাকার বিষয়টি মানেন নি। সেখানেও পরীক্ষার কিটের আর পিপিই’র সমস্যা, হাসপাতালে যায়গা নেই, এ্যাম্বুলেন্স ডাকলে আগে যেখানে ১৫ মিনিট সময় লাগত এখন ২/৩ ঘণ্টাতেও পাওয়া যায় না।

গত শুক্রবার ব্রিটিশ কলম্বিয়া ঘোষণা করেছে, সামাজিক দূরত্ব এবং নাগরিকরা ঘরে থাকার পর সেখানে প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশে নেমে এসেছে। কুইবেকের প্রিমিয়ার সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, মনে হচ্ছে কুইবেকে করোনা ভাইরাসের বিস্তৃতির হার কমে আসার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং নাগরিকরা ঘরে থাকার পর ইতালিতেও করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার কমতে শুরু করেছে। ইউরোপের অন্য দেশের চিত্রও একই। এতে বিশেষজ্ঞগনের বিশ্বাস যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং নাগরিকরা ঘরে থাকা করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার অন্যতম উপায়।

এবার আসি করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সুস্থ হবার উপায় নিয়ে। নিউইয়র্কে করোনা থেকে বেঁচে যাওয়া ৩ সদস্যের এক পরিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন যে, আক্রান্ত হবার পরে তাঁরা নিয়মিত চিনি ছাড়া গরম চা পান করেছেন, গরম পানি আর সুপ খেয়েছেন দিনে ৪/৫ বার।

উহানে বসবাসকারী এক ভারতীয় ব্যবসায়ী দাবি করেছেন যে, করোনা ভাইরাসের অন্যতম ওষুধ হচ্ছে প্রতিদিন ৪/৫ বার করে চিনি ছাড়া গরম চা পান করা, গরম পানি, গরম দুধ পান করা আর নাকে মুখে গরম পানির ভাপ নেওয়া। এতেই অধিকাংশ রোগী ভালো হয়ে যাচ্ছেন যদি তাঁদের অন্য কোন জটিল অসুখ আগে থেকে না থাকে।

অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমে অর্থাৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় এক শ্রেণীর মানুষ বলছেন যে, সরকার ভাইরাস আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য গোপন করছেন। তাঁরা ঠিকমত যোগাযোগ করেও হট লাইনে কথা বলতে পারা যায় না, বা লাইন পায়া যায় না। যখন পাওয়া যায় তখন আর দরকার থাকে না। বিভিন্ন হাসপাতালে সর্দি কাশি, জ্বরের রোগী নিয়ে গেলেও হাসপাতালে কেউ ভর্তি নেন না। আমিও এমন অনেক শুনেছি। অবিশ্বাস করি না সব। কারণ সুরক্ষা যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক হাসপাতাল করোনাভাইরাসের উপসর্গ আছে এমন রোগী ভর্তি নিতে অস্বীকার করছেন, হট লাইনও কাজে আসছে না।

হট লাইন সমস্যার সমাধান করতে সরকার একটি এপস তৈরি করেছেন। আগামী রবিবার নাগাদ তা সব মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে সবার মোবাইলে চলে যাবে। তাতে মোবাইলের মাধ্যমে অসুস্থতার সমস্যার বিস্তারিত এপসের মাধ্যমে অপারেটর হয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরকে জানানো যাবে। এবং খুব অল্প সময়ে ডাক্তারের পরামর্শ পাওয়া যাবে ফিরতি ম্যাসেজে। এতেই বুঝা যাবে যে, তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না। সন্দেহ হলেই সেখান থেকে নমুনা নিয়ে ৩/৪ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল দিতে পারবেন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর। বিভিন্ন অপপ্রচার আর পিপিই সংকটের কারণে ডাক্তারদের একটা বিরাট অংশ ডি মোটিভেটেড হয়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই আবার সেবায় ফিরে আসছেন। যারা জ্বর, কাশি আর শ্বাস কষ্টে মারা যাচ্ছেন তাঁদের একটা অংশই আগে থেকেই শ্বাস কষ্টের বা জটিল রোগের রোগী। এখন সব মৃত্যুই করোনাভাইরাসের মৃত্যু হয়ে যাচ্ছে কি!

সরকার এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে ৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন। এর বাইরে বরিশাল, কুষ্টিয়া সহ দেশের নানা স্থানে করোনা সন্দেহে প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন ৫ বা ৬ জন। এছাড়া ঢাকার একজন বৃদ্ধ যিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে সময়মত ভর্তি হতে না পারায় মারা যান, তাঁর নমুনা পরীক্ষায় করোনাভাইরাস নেগেটিভ পাওয়া গেছে। করোনাভাইরাস সন্দেহে মৃত্যুর আর তেমন উল্লেখযোগ্য খবর কোন মিডিয়ায় আসেনি। আসলে মৌসুমি জ্বর, কাশি আর করোনাভাইরাসের উপসর্গ প্রায় কাছাকাছি। তাই অনেকেই ভয় পান। এমন খবর এসেছে যে, বগুড়ায় স্বামীকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী। কারণ তাঁর নির্মাণ শ্রমিক স্বামী ঢাকা থেকে ফিরেছিলেন জ্বর গায়ে।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় একটা ইংরেজি দৈনিক এমন শিরোনামে খবর দিয়েছে যে চীনা কিটের কার্যকারিতা ঠিক নেই। কিন্তু ভিতরে লিখেছে যে যে কোম্পানি থেকে তাঁরা কিট নিয়েছে তা চীনা সরকার অনুমোদিত কিট নয়। বিবিসিও স্বীকার করেছে যে, চীন আর আলিবাবার সরবরাহ করা কিটের মান নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। বদমায়েশির রকমফের দেখে হতবাক হই। কারণ করোনাভাইরাস কিন্তু প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী বা সম্পাদককে ছাড় দেয় না।

এখন নাগরিক সাংবাদিকতার যুগ। সোশ্যাল মিডিয়া আর নিউজ পোর্টালে ছেয়ে গেছে গোটা দেশ। বিদেশে বসেও অনেকে বাংলা নিউজ পোর্টাল চালান। আমার আপনার বাড়ির পাশে কেউ মারা করোনাভাইরাস সন্দেহে মারা গেলে তা সাথে সাথেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বা দেশি বিদেশী পোর্টালে চলে আসবে। অনেকে বলতে পারেন দেশই পোর্টালে ছাপা হলে সে সরকারের রোষানলে পড়তে পারে, সেই ভয় আছে। কিন্তু বিভিন্ন এপস ব্যবহার করে বিদেশী আইডি’র সোশ্যাল মিডিয়া বা নিউজ পোর্টালে ছাপা হতে পারতো তথ্য প্রমাণ দিয়ে। তাঁদের অনেকেই তো মিথ্যা তথ্য দিয়ে খবর প্রচার করেন বিদেশে থাকার সুবিধা নিয়ে। এটা কেন করবেন না! বাংলাদেশে এমন কোন গ্রাম বা মহল্লা কী আছে যেখানে আওয়ামী লীগ বিরোধী মানুষ নেই! তাঁর এই মোক্ষম সুযোগ কী হাতছাড়া করবেন! মনে হয় না।