এবার জয়-লেখকের বি’রুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন!

ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের বি’রুদ্ধে তদন্ত করা হবে বলে ভোরের পাতাকে নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে আর্থিক লেনদেন, ছাত্রদল শিবির নেতাদের ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করিয়ে দেয়ার অভিযোগে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরই এ বিষয়ে আল নাহিয়ান খান জয় এবং লেখক ভ্টাচার্যের সম্পৃক্ততা নিয়ে তদন্ত করে ছাত্রলীগের সর্বোচ্চ অভিভাবক শেখ হাসিনার কাছে জানানো হবে।

তিনিই পরিবর্তীতে কি করণীয় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিবেন বলেও জানিয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান।

তিনি আরো বলেন, ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হিসাবে আমি (আব্দুর রহমান) এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এসেছে তা খতিয়ে দেখবো এবং অভিযোগ প্রমাণ হলে অবশ্যই জয়-লেখকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করবো।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক ভোরের পাতাকে বলেন, ছাত্রলীগ আমাদের সবার কাছে অনুভূতির নাম। রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রাব্বানীর পরিণতি দেখার পরও যদি আল নাহিয়ান খান জয় এবং লেখক ভট্টাচার্যের বি’রুদ্ধে একই রকমের অভিযোগ আসে, তখন সত্যিই আমাদের জন্য এটি বেদনার। আমরা আরো কঠিন হতে বাধ্য হবো। যেকোনো মূল্যে পরিচ্ছন্ন ছাত্রলীগ উপহার দিতে বদ্ধ পরিকর।

উল্লেখ্য, দুই দশকেরর বেশি সময় পর অছাত্র, বিবাহিত, শিবির ক্যাডার, অশিক্ষিত, নাশকতা ও চুরির মামলার আসামি, কাপড়ের দোকানদার, রেলের খালাসি, ব্যাংকারসহ বিতর্কিত ও অযোগ্যরা স্থান পেয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে। এ নিয়ে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এছাড়া জেলা ছাত্রলীগের ইতিহাসে ২৭৬ সদস্যের বিশাল কমিটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, কমিটিতে স্থান দেয়ার ক্ষেত্রে বিশাল বাণিজ্য হয়েছে। বাণিজ্য করার জন্যই ঢাউস কমিটি করা হয়েছে। ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান অনেক নেতা এবং আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলরা এ কমিটি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য ৪ মার্চ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১০১ সদস্যের জেলা কমিটি হওয়ার কথা। ২৯ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো ছাত্রকে কমিটিতে রাখার সুযোগ নেই।

বিক্রি হয়েছে ৩৫ লাখ টাকার বিনিময়ে। এ টাকার জোগান দিয়েছেন স্থানীয় বাঁশখালীর বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী। আর এক্ষেত্রে আল নাহিয়ান খান জয় এবং লেখক ভট্টচার্যের সাথে লিয়াজো বজায় রেখে কমিটি বাগিয়ে নিয়েছেন সার্জেন্ট জহুরুল হক শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন সুমন, যিনি বদিউজ্জামান সোহাগ এবং সিদ্দিকী নাজমুল আলমের কমিটিতে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি পদে ছিলেন।