আ’তঙ্কিত বিশ্বের জন্য স্বস্তির কয়েকটি খবর

ক’ঠোর ভ্রমণ নি’ষেধাজ্ঞা, লকডাউন ও গণ-আইসোলেশন এবং লা’শের স্তুপের মাঝে ক’রোনাভা’ইরাসে ম’হামা’রির বি’রুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াইয়ে বেশ কয়েকটি স্বস্তির খবর মিলেছে। তবে সবচেয়ে আশার খবর হলো বিজ্ঞানীরা প্রা’ণঘা’তী এই ভাই’রাসের ভ্যাকসিন আবি’ষ্কারে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখছেন।

নেদারল্যান্ডসের রটার্ডম এবং ইউট্রেচট ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক দাবি করেছেন, তারা মানবদেহে এক ধরনের অ্যান্টিবডির সন্ধান পেয়েছেন; যা সফলভাবে ক’রোনাভা’ইরাসেের একজন রো’গীকে সুস্থ করে তুলতে পারে।

ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মিরর বলছে, নেদারল্যান্ডসের গবেষকদের এই দাবি সত্যি হলে শিগগিরই ক’রোনাভা’ইরাসেের ভ্যাকসিন তৈরির পথ সুগম হতে পারে। এদিকে, ভারতের জয়পুরের সাওয়াই ম্যান সিং হাসপাতালের চিকিৎসকরা ক’রোনাভা’ইরাসেের রো’গীর শরীরে এইচআইভি, সোয়াইন ফ্লু ও ম্যালেরিয়ার ও’ষুধ প্রয়োগ করে ইতিবাচক ফল পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের চিকিৎসকরা এমন একটি প্রযুক্তি সামগ্রী তৈরি করেছেন; যা মাত্র আট ঘণ্টার মধ্যে কেউ ক’রোনা সংক্রমিত হয়েছেন কিনা তা জানিয়ে দেবে। এমনকি বাড়িতে বসে নিজেরাই এই পরীক্ষা করতে পারবেন।

জাপানের ও’ষুধ প্রস্তুতকারক তাকিদা ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি বলেছে, তারা ক’রোনাভা’ইরাসেের নতুন একটি ও’ষুধ তৈরি করছে। অন্যদিকে কানাডার অ্যন্টারিওর একদল গবেষক ক’রোনার সুস্থ রো’গীদের র’ক্তের প্ল্যাজমা নিয়ে এই ভাই’রাসের অনুরূপ একটি ভাই’রাস তৈরি করেছেন; যা ক’রোনার পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধন করতে পারে।

অন্য আরেকটি স্বস্তির খবর হলো- বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রা’ণহা’নির কেন্দ্র ইতালিতে ক’রোনাভা’ইরাসেের সং’ক্র’মণ বুধবার কিছুটা কমে এসেছে। ইতালির পাশাপাশি সং’ক্র’মণের সংখ্যা কমেছে দক্ষিণ কোরিয়াতেও। দুই সপ্তাহ আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় একদিনে সর্বোচ্চ ৯০৯ জন সংক্রমিত হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার দেশটিতে মাত্র ৭৪ জন ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হয়েছেন।

এছাড়া ক’রোনাভা’ইরাসেের উৎপত্তিস্থল চীনেও মঙ্গলবার নতুন করে মাত্র ১৩ জন ক’রোনা সংক্রমিত হয়েছেন। এরমধ্যে ১২ জন বিদেশ থেকে সংক্রমিত অবস্থায় দেশটিতে ফিরেছেন; অন্যজনের সং’ক্র’মণ ঘটেছে স্থানীয়ভাবে।

নয়াদিল্লিতে প্রথম যে ব্যক্তির শরীরে ক’রোনাভা’ইরাসে ধরা পড়েছিল; তিনিও সফদারজং হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন। ফেব্রুয়ারি মাসে চীনের উহানে ১৪টি অস্থায়ী বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরি করা হয়। মঙ্গলবার শেষ হাসপাতালটি বন্ধ ঘোষণার পর কর্মীরা বাসায় ফিরেছেন হাসিমুখে। কোনও রো’গী না থাকায় ক’রোনার সুরক্ষা সামগ্রী আকাশে ছু’ড়ে হাসতে হাসতে হাসপাতাল থেকে চলে যান তারা।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথমবারের মতো প্রা’ণঘা’তী এই ভাই’রাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয় কর্তৃপক্ষ। তখন থেকে নতুন এই ভাই’রাসে বিশ্বজুড়ে প্রা’ণ গেছে ৮ হাজার ২৭২ জনের। এছাড়া এতে আ’ক্রান্ত হয়েছেন দুই লাখ ৮ হাজার ২০২ এবং সুস্থ হয়েছেন ৮২ হাজার ৯০২ জন।

সূত্র: ডেইলি মিরর, দ্য সান।