‘আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ভ’য়ংকর অবস্থার সৃষ্টি হতে যাচ্ছে’

আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে একটা ভ’য়ংকর অবস্থার সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। অবস্থাটা এরকম হতে পারে।

১। অসংখ্য মানুষ ঢাকা মেডিকেলসহ অন্যান্য হাসপাতালের ইমারজেন্সিতে আসছে। প্রায় সবাই কাশি জ্বর শ্বাসক’ষ্ট নিয়ে। ইমারজেন্সিতে ডাক্তার পাওয়া যাবে খুব কম। ভিড়ের ঠেলায় মা’রামারি লেগে যেতে পারে। আইসিইউ এবং অক্সিজেন সরবরাহের অভাবে অনেক মানুষ মা’রা যেতে পারে। যাদের অধিকাংশ হবে বয়স্ক লোকজন। অধিকাংশ গরিবেরা যাবে ঢাকা মেডিকেলে এবং ধনীরা যাবে প্রাইভেট হাসপাতালে।

২। বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতারাও এই হাসপাতালগুলোতে ভিড় জমাবেন। আমার ধারণা রাজনৈতিক নেতাদের চা’পে হাসপাতালগুলোর তথৈবচ অবস্থা হবে।

৩। দোকান পাটে দৈনন্দিন জিনিসপত্রের বিক্রি ও দাম দুটোই বাড়বে। বিশেষ করে চাল, ডাল, তেল, লবণ, শুকনো খাবার ইত্যাদি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন কমে যেতে পারে। দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক বেড়ে যেতে পারে।

৪। ঢাকা শহর ফাঁকা হয়ে যাবে। দলে দলে মানুষ গ্রামের বাড়িতে চলে যাবে।

৫। মফঃস্বল শহর ও গ্রামে গ্রামে মানুষ ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হয়ে জে’লা হাসপাতালগু’লিতে ভিড় জমাবে। ক’রোনার কারণে অন্যান্য রো’গীদের প্রতি ডাক্তারদের সার্ভিস কমে যাবে। ফলে অন্য রো’গীদের মৃ’ত্যুহার বেড়ে যাবে।

৬। স্কুল কলেজ আগামী এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ করতে হতে পারে।

৭। অফিস স্কুল কলেজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে দৈনন্দিন জীবিকা পালন কারি যেমন রিক্সাচালক, ড্রাইভার, শ্রমিক, কৃষক এমন পেশার মানুষের দিন চা’লানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে যাবে। অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে যাচ্ছি। সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে একটা অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।

আতংকিত না হয়ে আসুন আমরা সবাই সচেতন হই। স’রকারের একার পক্ষে এই ম’হামা’রী থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। সবার ঐকান্তিক সদিচ্ছা ও সহযোগিতা দরকার। যথাসম্ভব পরিবারের সদস্যসহ নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করি। সামাজিক মেলামেশা, জনসমাগম পরিহার করি। ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও রেস্পিরেটরি হাইজিন মেনে চলি। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, আমার আশংকা যেন সত্যি না হয়। মহান আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন। আমিন।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, ফার্মেসি অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
লেখা: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত