অবশেষে মোদির ঢাকা সফর বাতিল

আন্দোলন হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি বাংলাদেশ সফর বাতিল করছেন, এরকমই শোনা যাচ্ছে।যদিও সরকারিভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি। প্রশ্ন, মোদি নিজে না এলে কাকে পাঠানো হবে?‌ কোনও মন্ত্রীকে নয়, পাঠানো হতে পারে ভারতের বিদেশসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলাকে।

হাওয়ায় এমনই খবর। আগামী দু’একদিনের মধ্যে এ বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে। বিভিন্ন দেশ ও সরকারের প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে ওই অনুষ্ঠানে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের উদ্বোধনী আয়োজনকে সামনে রেখেই সোমবার দু’‌দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন বিদেশসচিব শ্রিংলা। কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন করে গেছেন তিনি।

সোমবার শ্রিংলা দেখা করেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে। সেখানে সীমান্ত–‌হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিদেশমন্ত্রী মোমেন। বৈঠক শেষে ড. মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌আমি বললাম, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমাদের জিরো কি’লিং হবে বর্ডারে।কিন্তু দু’র্ভাগ্যজনকভাবে এ বছরে হ’ত্যাকাণ্ড অনেক বেড়ে গেছে। আমি বললাম, আপনারা আমাদের বন্ধু মানুষ। এই বন্ধুদের মধ্যে হ’ত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঠিক না।’‌ ভারতের বিদেশসচিব সীমান্ত–‌হ’ত্যা বন্ধে ‘চেষ্টা চালাবেন’ বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

বাংলাদেশ–‌ভারত সীমান্ত নিরাপত্তার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সীমান্ত–‌হত্যাকাণ্ড। মাঝে কিছুটা কমলেও সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের গু’লিতে বাংলাদেশির মৃ’ত্যু এখন আবার বেড়েছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে দেখা গেছে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশ–‌ভারত সীমান্তে বিএসএফের গু’লিতে ৩৭ জন এবং শারীরিক নির্’যাতনের কারণে ৬ জন–‌সহ মোট ৪৩ জন প্রা’ণ হারিয়েছেন।

অভিন্ন নদীর জলবণ্টন ইস্যু নিয়েও শ্রিংলার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী। ভারতে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে অশান্তি চলছে। সেই প্রসঙ্গও তোলা হয়। ড. মোমেন বলেন, ‘আমি তাঁকে বলেছি, আপনাদের দেশের অনেক ইস্যু আছে, যেগুলো আমাদের দেশে সময়ে সময়ে চিন্তার কারণ হয়। উদ্বেগ হয় আমাদের জনগণের, এবং সেসব নিয়ে জনগণের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হয়। আমরা চাই, আপনারা এমন কিছু করবেন না, যাতে আমাদের অসুবিধার সৃষ্টি হয়।