সুর নরমের আভাস দুই পক্ষের, হেফাজতের ভাঙন ঠেকাতে যত তৎপরতা!

সদ্যঘোষিত কমিটি সংস্কার এবং আল্লামা শফীর নীতিতে ফিরলে অভিমান ভুলে আগের কমিটিতে ফিরতে রাজি আছেন হেফাজতের পদবঞ্চিত নেতারা। কিছু নেতার হটকারী সিদ্ধান্তে এখনই কওমি আলেমদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মটির ভাঙন চান না তারা। অপরদিকে পদবঞ্চিতদের একবারে বহিষ্কার করা হয়নি বলে জানিয়েছেন বর্তমান কমিটির নেতারা। তারা বলছেন, যাদের কমিটিতে রাখা হয়নি তাদের হলুদ কার্ড তথা সর্তক করা হয়েছে।

এছাড়া অচিরেই হেফাজতের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৩১ জনকে যুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত আলাপনে হেফাজতের দুই পক্ষের নেতারা এসব কথা বলেছেন। সদ্যবিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঈনুদ্দীন রুহী বুধবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, হেফাজতে ইসলাম কোন ব্যক্তি বা দলকেন্দ্রিক সংগঠন নয়, এটি এ দেশের কওমি আলেম ও মুসলমানদের একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম।

হেফাজতের ভাঙন আমরা চাই না। বর্তমান কমিটির নেতারা যদি আল্লামা শফীর নীতি ও আদর্শে ফিরে এসে তাদের ভুল শুধরিয়ে নেয় তাহলে এক হয়ে কাজ করতে আমাদের কোন অসুবিধা নেই। তিনি আরও বলেন, তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিবাদ নেই। আমরা একই শিক্ষক ও মাদ্রাসার ছাত্র। তাদের সঙ্গে আমাদের অভিমান চলছে। তবে তারা যদি অভিমান দীর্ঘস্থায়ী করে তাহলে হয়তো আমাদের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এক্ষেত্রে আগামী শনিবার ঢাকায় নিজেদের অনুসারী আলেম-ওলামা এবং হেফাজত নেতাদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি। প্রসঙ্গত, গত ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় সম্মেলনে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে প্রধান করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

১৫১ সদস্যের মধ্যে ১২০ জনকে ওই দিন মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। বাকি ৩১ জনকে পরে যুক্ত করবে নতুন কমিটি। ওই কমিটিতে স্থান পাননি আগের কমিটির প্রচার সম্পাদক ও আল্লামা শফীপুত্র মাওলানা আনাস মাদানীসহ প্রতিষ্ঠাকালীন অনেক নেতা।

সম্মেলনে তাদের দাওয়াত দেয়াই হয়নি বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছেন সাবেক কমিটির নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মঈনুদ্দীন রুহী, মাওলানা সলিমুল্লাহ ও ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত আমিনী। তাদের কাউকেই অনুষ্ঠিত সম্মেলন স্থলে দেখা যায়নি।

পদবঞ্চিতদের বহিষ্কার করা হয়নি, হলুদ কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করা হয়েছে বলে মনে করেন বর্তমান কমিটির নবনির্বাচিত সহ-সম্পাদক ও হাটহাজারী মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী। তিনি মনে করেন, পদবঞ্চিতরা তাদের কৃতকর্মকাণ্ডের জন্য বাদ পড়েছেন। এর মানে এই নয় তাদের হেফাজত থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

যদিও এমন বক্তব্য মনগড়া দাবি করে মঈনুদ্দীন রুহী বলেন, বরং তারাই হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমীর আল্লামা শফীর ওপর জুলুম নির্যাতন ও তার কক্ষ ভাংচুর করেছে। ছাত্র আন্দোলনের নামে হাটহাজারী মাদ্রাসার বেশ কয়েকজন আলেমকে মারধর করেছে। এছাড়া হেফাজতের বর্তমান কমিটিতে ঘি, হজ ও জমির ব্যাপারীদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

যারা হেফাজত সম্পর্কে অজ্ঞ এবং তারা কখনও হেফাজতের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেনি। নতুন কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব নাছির উদ্দিন মুনির জানান, অচিরেই হেফাজতের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির বাকি ৩১ জনকে যুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

কবেনাগাদ যুক্ত করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিগগিরই দেশব্যাপী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে ঢেলে সাজানোর আগেই বাকি সদস্যদের যুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি প্রকাশ করা হবে। বাকি ৩১ জনকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে কাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করার সময় এখনও হয়নি, পববর্তীতে জানানো হবে।

গত মাসের ১৭ সেপ্টেম্বর হেফাজতে ইসলামের আমীর শাহ আহমদ শফী মারা যান। এরপর থেকেই আমীর নির্বাচন নিয়ে সংগঠনটিতে টানাপোড়েন শুরু হয়। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের আগে ঢাকায় ও চট্টগ্রামে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে হেফাজতে ইসলামের প্রতিনিধি সম্মেলন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আল্লামা শফীপুত্রের অনুসারী মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন ও মুফতি ফয়জুল্লাহ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর হেফাজতের দুই গ্রুপের বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নিতে দেখা গেছে।

Sharing is caring!

1 thought on “সুর নরমের আভাস দুই পক্ষের, হেফাজতের ভাঙন ঠেকাতে যত তৎপরতা!

Comments are closed.

April 2021
M T W T F S S
« Mar    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
x