তরুণ-তরুণীর প্রেমকেও হার মানালো শিক্ষিকার সাথে আওয়ামী লীগ নেতার পরকীয়া

প্রেম মানে না বয়স, না মানে জাত-পাত… সাহিত্য জগতের এই বাক্যেটি বাস্তবিক অর্থেই অমূলক নয়। বাকেরগঞ্জের একটি আ’লীগ নেতা দুই স’ন্তানের জনক ফারুক হোসেন মল্লিক প’রকিয়ায় লি’প্ত হয়ে কবি-সাহিত্যিকদের সেই মন্তব্যকেই প্রমান করলেন দুই স’ন্তানের জ’ননীর সাথে দীর্ঘ স’ম্পর্ক রেখে।

কিন্তু বি’পত্তি প্রথমা স্ত্রী রুনা লায়লা স্বামীকে ঘরমুখো করতে এ পর্যন্ত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে ফিরিয়ে প’রকিয়া প্রেমের পথ থেকে। এ নিয়ে জল কম গোলা হয়নি। পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়ে ছিল এই প্রেম কাহিনী সমাধানে। কে শোনে কার কথা? ঠিকই ফারুক মল্লিক প্রেমিকা কনিকা বেগমের প্রেমে এতটাই মশগুল যে, নিজ গ্রাম বাকেরগঞ্জ ছে’ড়ে বরিশাল শহরে এসে একত্রে বসবাস করে। অন্যদিকে স্ত্রী খুঁজতে থাকে প্রেমে আ’সক্ত স্বা’মীর অবস্থান।

অবশেষে মিলে গেল ফারুক মল্লিক ও কনিকা বেগমের সেই গো’পন অভিসারের ঠিকানা। ঘটনা গতকাল দুপুরের। বেলা যখন ২টা, ঠিক তখন স্ত্রী রুনা লায়লা উপস্থিত হয় নবগ্রামের সড়কের সেন্টপিটার উদ্য়ান স্কুল সংলগ্ন একটি বাসায়। যে বাসাটি কনিকা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন, যেখানে প্রেমিক ফারুক হোসেন মল্লিক প্রায়ই আসতেন, থাকতেন। অনেকটা স্বা’মী-স্ত্রীর ন্যায় তাদের জীবন-যাবন সম্পর্কে এলাকাবাসীর সম্মুখ কোন ধারনা ছিল না। বি’দ্রোহ স্ত্রী রুনা লায়লা যখন ওই বাসায় উপস্থিত তখন প’রকিয়া প্রেমিক যুগল সেখানে অবস্থান করছিলে।

এক পর্যায় স্ত্রী তার অধিকার আদায়ে স্বামী ফারুক হোসেন মল্লিককে টে’নে হি’চরে বাসা থেকে বে’র করার চেষ্টায় সেখানে উৎসুক জনতার ভিড় বেড়ে গেলে জানা জানি হয়ে যায় এক প্রেম কাহিনীর আদ্যপান্ত। পরিস্থিতি এতোটাই গোলাটে হয়ে উঠে যে, এই আ’লীগ নেতা তিন স’ন্তান রেখে আরেক না’রীর প্রতি আ’সক্ত হওয়ার কাহিনী অবগত হয়ে ক্ষু’ব্ধ এ’লাকাবাসী স্ত্রী’র পক্ষ নিয়ে তাকে উ’ত্তম-মা’ধ্যম দেয়। খবর পেয়ে কোতয়ালী ম’ডেল থানার একটি টিম প’রকিয়া প্রেমিক-প্রেমিকাকে থানায় নিয়ে আসে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যান্ত শেষ খবর হচ্ছে, প্রথমা স্ত্রী রুনা লায়লা এ বি’ষয় আইনী পদক্ষেপ নিতে থানায় অবস্থান করছিলেন।

রুনা লায়লার ভাষ্য ও বাকেরগঞ্জ চরাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন সূত্র জানায়, অত্র ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ফারুক হোসেন মল্লিক ক্ষমতার দা’পট দেখিয়েছেন। ক্ষমতার জো’রে স্থানীয় হলতা বোর্ড স’রকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির পদ বা’গিয়ে নেন। স্কুল কমিটিতে নিজের নামটি অন্তর্ভুক্ত করার পর বিদ্যালয়ের গাছ কে’টে বিক্রি করে বি’তর্কের জন্ম দিয়েছিলেন এই আ’লীগ নেতা। সেই ‘বিতর্ক ছাপিয়ে সামনে আসে তার প’রকিয়া প্রেম বি’ষয় নতুন ঘটনা। সূত্র মতে, ফারুক হোসেন মল্লিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির পদে অসীন হওয়ার পরই অত্র স্কুলের শি’ক্ষিকা কনিকা বেগমের সাথে প’রকিয়ায় জ’ড়িয়ে পরে।

এরপর থেকেই ফারুক মল্লিক স্ত্রী রুনা লায়লাকে এরিয়ে চলতে শুরু করে। রুনা লায়লার ঘরে ফারুকের ঔরাসে একটি পু’ত্র ও দুইটি ক’ন্যা স’ন্তান রয়েছে। পুত্র স’ন্তানটি প্র’তিব’ন্ধী। এদিকে ম্যানেজিং কমিটির শীর্ষ পদের ব্য’ক্তির সাথে প্রেম রসয়নে এতটাই মসগুল যে, শিক্ষিকা কনিকা বেগম ফারুক মল্লিকের অতীত দাম্পত্য বিবেচনায় না এনে বরং তাকে স্বা’মী হিসেবে পাওয়ার আসায় নাটকীয় কায়দায় চলতে শুরু করে। জানা গেছে, কনিকা বেগমের ব্য’ক্তি জীবনও সুখের নয়, ইতিপূর্বে তিনটি ঘর বদল করে চর্তুথ এক ব্য’ক্তির সাথে মালা বদল করেছিল। কিন্তু সেই স্বা’মী নামেই মাত্র।

একটি সূত্র জানায়, গত মাসে বাকেরগঞ্জের দাড়িয়াল ইউনিয়নের কনিকার নিজ গ্রামের বাসায় ফারুক মল্লিক জামাইয়ের বেসে অবস্থান নেয়। কনিকার বাবা-মাও বি’ষয়টি যেনো সহজভাবে মেনে নেয়। এই খবর পেয়ে রুনা লায়লা স্বা’মীকে একহাত দিতে দাড়িয়াল গ্রামে উপস্থিত হয়ে কনিকার বাসায় প্রবেশ করে পেয়ে যায় স্বামী ফারুক হোসেন মল্লিককে। আর যায় কৈ- এরপর হূ’লুস্তুল কা’ন্ড। গ্রামবাসী জরো হয়ে জানতে পারে বহুগামী স্কুল শি’ক্ষিকা কনিকার নতুন প্রেম কাহিনী। সেই সাথে ক্ষো’ভও বাড়ে একজন আ’লীগ নেতা স্ত্রী-ঘর রেখে এ ধরনের একজন না’রীর সাথে প্রেম স’ম্পর্কে জ’ড়িয়ে পড়ায় গ্রামবাসী তাদের পুলিশে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

স্থানীয় শার্শি পুলিশ ফাঁ’ড়িতে ফারুক ও কনিকাসহ স্ত্রী রুনা লায়লাকে নিয়ে পুলিশ প্রশাসন একটি সুরাহা বৈঠকে বসে ঘটনার শেষ টানতে চেয়েছিল। কৌশলী ফারুক হোসেন মল্লিক আপাতত ইজ্জত রক্ষায় পুলিশের প্রস্তাব মেনে নিয়ে আর নয় এই পথ, ফিরে যাবে বাড়িতে, এমন শর্তে প্রথমা স্ত্রীর কাছে সেদিন ক্ষমা চেয়েছিল। এসব বি’তর্কের কারনে ফারুক হোসেন মল্লিক ইউনিয়ন আ’লীগের নে’তৃত্ব থেকে ছি’টকে পরে। অন্যদিকে ফারুক মল্লিকের বাড়ির সামনে হলতা স্কুল ত্যা’গ করে স্ব-ইচ্চায় বদলি হয়ে পাশ্ববর্তী চরামদ্দিন ইউনিয়নের গুয়াখোলা স’রকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যোগ দেন।

কিন্তু গ্রাম ছেড়ে বরিশাল শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে সেখান থেকেই চাকুরীস্থলে প্রতিদিন যাতায়াত করতেন। যতদ্দুর জানা গেছে, মল্লিকের সিদ্ধান্তেই কনিকা গ্রাম ছেড়ে শহরে বাসা ভাড়া নেন।

স্ত্রী রুনা লায়লা স্বামীকে কোনভাবেই ফে’রাতে না পেরে তিনিও গ্রাম ছেড়ে স’ন্তানদের নিয়ে বরিশাল শহরে আশ্রয় নিয়ে একটি ক্লিনিকে চাকুরী নেন। ঠিকই খোঁজ খবর রাখেন ফারুক মল্লিক কোন পথে হাটছেন। তিনি চেয়েছিল, তাকে যখন পরকিয়ার পথ থেকে ফেরানো যাচ্ছেই না, তখন একটি উচিত শিক্ষা দিয়ে অন্তত নিজের মনের জ্বা’ল মে’টাবেন। কাকতালিয়ভাবে ঘটলও তাই।

গত ১৫ নভেম্বর দুপুরে নবগ্রাম কনিকার ঘরে ফারুক মল্লিকের আশ্রয়ের খবর পেয়ে রুনা লায়লার উপস্থিতি বিপাকে ফে’লে দেয় প’রকিয়ায় এই প্রেমিক যুগলকে। উভ’য়ের বস ৪৫ উর্ধ্ব হলেও এই প’রকিয়া প্রেমিক-প্রেমিকার একে অপরের প্রতি টান যেনো টিনেজ তরুণ-ত’রুণীদের প্রেম প্রীতিকে হার মানায়। স্ত্রী রুনা লায়লা যখন স্বা’মীর জন্য চি’ৎকার চেঁ’চামচিতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমিয়ে দিয়েছে, তখনও প’রকিয়া প্রেমিক ফারুক হোসেন মল্লিক একটু টলেনি।

প্রত্যক্ষদর্শিরা জানায়, স্ত্রী যখন বেয়ারা স্বামীর কা’ন্ডে কাঁ’দছে, তখন স্বামী ফারুক হোসেন মল্লিক প্রেমিকা কনিকাকে ছাড়তে নারাজ। কি অমর প্রেম, নাকি প্রেমের মহত্ব- তা দেখে স্থা’নীয়রাও নিজেদের ক্ষো’ভ সামাল দিতে পা’রেনি। এরপর যা ঘটেছে তাতে গা’য়ে হা’ত ওঠাই স্বাভাবিক।

এই প’রকিয়া প্রেম নিয়ে দুপুরের খবর ছড়িয়ে পরে গোটা শহরে। মিডিয়াকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত হয়। পরে পরিস্থিতির আলোকে পুলিশ সেখানে যেতে বা’ধ্য হয়। এবং উ’দ্ধার করে নিয়ে আসে ফারুক হোসেন মল্লিকসহ কনিকা বেগমকে। স্ত্রী রুনা চাচ্ছে স্বামী যখন ফিরছেই না অন্তত এবার আইনের বেরাজালে তাকে আ’টকাতে চায়।

এ প্রসঙ্গে কোতয়ালী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম জানান, উভ’য় যতেষ্ট সচেতন। তাদের লজ্জাবোধ না থাকলে করনীয় কি। কিন্তু আইনের আওতায় স্ত্রী রুনা বেগমের দাবি অনুযায়ী ফারুক মল্লিকের বি’রুদ্ধে মা’মলা দেয়ার কোন গ্রাউন্ড না থাকায় স’ন্দেহজনক ধারায় ফারুক-কনিকাকে আ’দালতে সোপর্দ করার সিদ্ধান্তের কথা জানান।

গত রাত ৮ টায় পুলিশ কর্মকর্তার সাথে যখন এই প্রতিবেদকের প’রকিয়া প্রেম প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হচ্ছিল তখন ফারুক ও কনিকা কোতয়ালী থানার হাজত খানার পাশাপাশি দুই রুমে অবস্থা করছিলেন বলে জানিয়েছেন রুনা লায়লা। তার ভাষায় প’রকিয়া প্রেমিক যুগল যেভাবে থানায় স্বাভাবিকভাবে আচারন করছে তাতে মনে হচ্ছে কা’রাগরে নয়, উভ’য়ের মধ্যে আনুষ্ঠনিক বিয়ে দিয়ে ছে’ড়ে দিলে কেঁ’দে মা বাচি অবস্থা দাড়িয়েছে।

সূত্রঃ বরিশাল বাণী

Sharing is caring!

1 thought on “তরুণ-তরুণীর প্রেমকেও হার মানালো শিক্ষিকার সাথে আওয়ামী লীগ নেতার পরকীয়া

Comments are closed.

July 2021
M T W T F S S
« Mar    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  
x